ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ২০২৬ সালের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মাননার তালিকা। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সমাজসেবাসহ অন্যান্য খাতে সফল ব্যক্তিদের এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তবে প্রধান আকর্ষণ এটি বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা ও ‘হি-ম্যান’ খ্যাত প্রয়াত ধর্মেন্দ্র সিং দেওলের নাম। রূপালি পর্দায় দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। এই বীরযোদ্ধা অভিনেতাকে এবার মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তার জীবদ্দশায় না পাওয়ায় অত্যন্ত মানসিক আনন্দের পাশাপাশি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
ভারতের বেসামরিক সম্মাননাগুলোর মধ্যে ‘পদ্মবিভূষণ’ হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান। এর আগে ২০১২ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ধর্মেন্দ্রকে ‘পদ্মভূষণ’ পদক প্রদান করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর এই মহান অভিনেতার ৯০তম জন্মদিনের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে একটি আবেগপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ধর্মেন্দ্র অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ এবং সাম্প্রতিক সিনেমা ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহিনি’, যেখানে তার অভিনয় অনবদ্য। এই সম্মাননা তাকে ইতিহাসের পাতায় আরও উজ্জ্বল করে তুলল।
এছাড়াও, এবারের পদ্ম সম্মানের তালিকায় কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে। প্রখ্যাত মালয়ালম অভিনেতা মর্যাদাবান মাম্মুট্টি এবং সংগীতশিল্পী অলকা যাজ্ঞিককেও এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ওপার বাংলার সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও অভিনেতা আর মাধবনকেও ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, অভিনেতা সতীশ শাহকে মরণোত্তর ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করা হবে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট পাঁচজন ব্যক্তিকে ‘পদ্মবিভূষণ’, ১৩ জনকে ‘পদ্মভূষণ’ এবং ১১৩ জনকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননা প্রদান করা হবে। এগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণ হবে চলতি বছরের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে, যেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন। ধর্মেন্দ্রর মতো কিংবদন্তি অভিনেতার মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি এবং প্রসেনজিৎ ও মাম্মুট্টির মতো তারকাদের সম্মাননা দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশে বিশেষ এক উচ্ছ্বাসের বার্তা নিয়ে এসেছে।






