কলম্বোতে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লঙ্কান বোলারদের ওপর স্মরণীয় এক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারী ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের রেকর্ড গড়া বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং জো রুটের সুইট ব্যাটিংয়ের কাছে ৫৩ রানে হেরে গেছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংলিশরা, যা ২০২৩ সালের পর বিদেশের মাটিতে তাদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস। তবে আগে এই উইকেট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও, এই মাঠে এসে ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কানদের দমন করে ব্রুক দেখিয়েছেন তার ঔজ্জ্বল্য।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংলিশরা শুরুতে ভালো নাই। ওপেনার বেন ডাকেট ৭ রান করে আউট হন এবং রেহান আহমেদ মাত্র ২৪ রানে ফিরে যান। তবে, তৃতীয় উইকেটে জ্যাকব বেথেল ও জো রুটের মধ্যে ১২৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। বেথেল ৭২ বলে ৬৫ রান করে আউট হলে, অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ক্রিজে পা রাখেন। এরপর শুরু হয় ব্রুক-রুটের মহাকাব্যিক জুটি। এই দুজন ১১৩ বলে ১৯১ রান যোগ করেন, যার অধিকাংশই আসে ব্রুকের ব্যাট থেকে।
হ্যারি ব্রুক তার ব্যাটে আজ এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন। তিনি ৬৬ বলে ১৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কার মার। তিনি মাত্র ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের মালিক ইয়ন মরগানকে টেক্কা দেন। মজার বিষয় হলো, রুট যখন সেঞ্চুরি করে তখন ব্রুক হাফসেঞ্চুরিতে ছিলেন, কিন্তু শেষ ৩৪ বলের মধ্যে তিনি ৯৮ রান তুলেছেন। অন্য প্রান্তে রুট ১০৮ বলে ১১১ রান করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৫৭ রান।
৩৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে লঙ্কানরা উঠে পড়ে লেগে Arun। পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারে ১০৪ রান তুললেও, ধারাবাহিক উইকেট পতনের জন্য দেরি হয়নি। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান করে ফিরে যান। তবে, খেলতে থাকা পভন রত্ননায়েক তার প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন, ১১৫ বলে ১২১ রান করে লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু অন্যরা খুব বেশি সহায়তা করতে না পারায়, ৪৬.৪ ওভারে সব ব্যাটার আউট হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কার এই সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত ৩০৪ রানে অলআউট হয়।
ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে সফল ছিলেন জেমি ওভারটন, লিয়াম ডসন, উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ; প্রত্যেকে দু’টি করে উইকেট নেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ব্রুক-রুটের ব্যাটিংয়ে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা। এই বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে এই সিরিজ জয় ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য নতুন এক আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেয়। অন্যদিকে, দেশের মাঠে লড়াই করেও সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে হতাশ হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা।






