বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা-উদ্বেগের কথা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের করা ওই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি কি কোনো বিশেষ বার্তা দেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, “বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে বড় কোনো অশান্তি বা ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। ছোটখাটো ধাক্কাধাক্কি বা মারামারি ছাড়া বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কাও নেই। তবে এই সংকেতের প্রকৃতি কী, তা আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। এটা তাদের নিজস্ব বিষয়। তারা হয়তো তাদের কর্মচারীদের ফিরে যেতে বলছে। কেন বলছে, সেটা আমি খুঁজে পাচ্ছি না।”
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়ে তিনি জানান, সরকার চায় অধিক সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজ থেকে উদ্যোগ না নিলেও, যদি কেউ আসতে আগ্রহী হন, তাহলে তাদের সকল ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি জানান, অতীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক রোহিঙ্গা হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট নবায়ন দেয়া হয়েছে। তবে এর মানে হচ্ছে না যে তারা এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবেই গণ্য হবে। তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের ত্রুটির কারণে বহু রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন। তখন তারা হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করতেন, যা দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যারা আমাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে গেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছে।”






