চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ নম্বর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের গোয়ালনগর পাটওয়ারী বাজারে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনটি প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। এই গণযোগদানের মাধ্যমে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ বকাউল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবু বকর পাটোয়ারী, এছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর সরকার। তারা তাদের বিপুল সংখ্যক সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষের পতাকাতলে আশ্রয় নেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নবাগত নেতাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন।
বণ্যত: বিএনপির রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন সভাপতি হাজী ওসমান গাজীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও থানার বিএনপির নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের ধানের শীষের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর। এসময় আরও ছিলেন হযরত আলী ঢালী, ফয়সাল গাজী বাহার, আবুল হোসেন প্রধানিয়া ও মাসুদ রায়হান সহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
নবাগত নেতারা তাদের বক্তব্যে জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্বে তারা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দলের ঝরে পড়েছেন। বিশেষ করে চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের জনপ্রিয়তা ও গুণমুগ্ধতা তাদের এই সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত করেছে। তারা অঙ্গীকার করেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর বলেন, রাজরাজেশ্বর বরাবরই বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। আজকের এই বিশাল সংখ্যায় যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই গণজোয়ার দেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নতুন সাথীদের নিয়ে আগামীর আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রচারণার শপথ নেন, যা এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়।






