২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য অবদান রাখা ছাত্র-জনতার তালিকায় অপ্রঠিত অভিযোগ ও ভুল তথ্যের কারণে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যক্তিরা ভুল ও অসত্য তথ্য প্রদান করে তালিকায় নাম ঢোকান, যা এখন বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে, সেটি সরকারী গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ১১(৪) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬’-এর শিডিউল-১ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতার ভিত্তিতে এই ১২ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা সবাই জুলাই যোদ্ধাদের ‘গ’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মূলত, গেজেটের জন্য দাখিলকৃত তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সরকার এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস ও সম্মান রক্ষার্থে জালিয়াতি বা অনিয়মের কোনো স্থান নেই।
বাতিল হওয়া এই ১২ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর ও মোছা. সখিনা। অন্যদিকে, চাঁদপুরের বাতিল ব্যক্তিরা হলেন মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকের গেজেট নম্বর, মেডিকেল কেস আইডি এবং স্থায়ী ঠিকানা সহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এটি প্রথম নয় যে, জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, গত বছর ২৯ অক্টোবর, ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে একই নামের ব্যক্তিদের দুটি বার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে ১২৮ জনের গেজেট বাতিল করেছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকারের লক্ষ্য হলো, এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে প্রকৃত শহীদ ও যোদ্ধাদের একটি সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা। মূলত, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করতে এই ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ মাধ্যমে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ফুটে উঠেছে, প্রকৃত বীরদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার।






