আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত রোববার খিলগাঁও বাজারে ব্যাপক গণসংযোগ করে নির্বাচনী প্রচার পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, কিছু শক্তিশালী মহল পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটিয়ে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করে ভোটারদের মনস্তাত্বিক প্রভাব ফেলানোর চেষ্টা করছে। মির্জা আব্বাস স্পষ্ট করে বলেন, অপপ্রচার বা ধাপ্পা দিয়ে প্রকৃত অর্থে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিছু রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই নিজেদের জয় নিশ্চিত করে মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছে, যা দেশের সাধারণ ভোটাররা বুঝতে পারছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এ সব অপ্রত্যাশিত শক্তি কোথা থেকে আসছে, যারা আসলে দেশ ও জনগণের সঙ্গে কতটা সত্যরূপে সংযুক্ত তা জনগণের জানার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনী পরিবেশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু অভিযোগে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দানের ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর অভিযোগ, নিজেকে এককভাবে টার্গেট করে নানা ধরনের মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করলে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। মির্জা আব্বাস বলেন, কমিশন একচোখা আচরণ করছে, যা একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে বড় বাধা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকাসহ অনেক দেশের ভোটার তালিকা আপত্তিজনকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনের মোট ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এই অদৃশ্য ভোটারদের মোটিভেশন বা অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে, ফলাফল দুর্বল ও ভুয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তাঁর দাবি, এই তালিকা থেকে যত দ্রুত সম্ভব অসচ্ছল বা অপ্রাসঙ্গিক নাম বাদ দিতে হবে, কারণ সঠিক ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ছাড়া সত্যিকার জনমত প্রকাশের বিষয়টি সম্ভব নয়।
এছাড়া, তিনি নারীদের কর্মসংস্থান ও নারীবিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিরোধীদের কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, নারীদের কাজের বিপক্ষে এরকম কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ইসলাম ধর্মের মূল চেতনার বিরুদ্ধে এবং এমন মনোভাবের জন্য সমাজে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারীদের সমঅধিকার ও মর্যাদার প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি সরকার বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে থাকলেও বর্তমান সময়ে কিছু অসাধু গোষ্ঠী গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি বলেন, আজকের সময়ে একজন অর্বাচীন বালক একদল সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দিক ঠিক করছেন, যা দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের মানুষ গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের অপচেষ্টা মানবে না।
আলোচনা শেষে দুপুরে তিনি খিলগাঁও বাজারের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ও গণসংযোগ চালিয়ে যান। রাতে পলওয়েল মার্কেটের পেছনে এক প্রীতি সভায় অংশ নেন। এই দিনব্যাপী প্রচারণায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উত্তম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মূল লক্ষ্য হলো কারচুপি মুক্ত, সচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করা। মির্জা আব্বাসের এই প্রচারণা এখন সাধারণ ভোটার ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক বিপ্লবের উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে।






