আসন্ন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্বক্রিকেটে ব্যাপক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। দেশটির সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেবে, তবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত মুখোমুখি ম্যাচটি খেলবে না। এই শক্তিশালী এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং বাংলাদেশের প্রতি বৈষম্য—a দুটো বিষয়ই পাকিস্তানের স্বরূপগত প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে, পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড এক যুক্তি নিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছে—অর্থাৎ, ক্রিকেটের সত্তার মধ্যে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বার্তা দেয়ার জন্য তারা এই ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে লুকানো যুক্তি হলো, আইসিসির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও তার একপাক্ষিক আচরণ, বিশেষ করে বাংলাদেশে ঘটানো অপ্রত্যাশিত অবদান। এর বিরুদ্ধে পাকিস্তান ইতিমধ্যে জোরালোভাবে সোচ্চার হয়েছে। চলতি সপ্তাহে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সরকার মনে করছে, আইসিসি এখন তার আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের পরও তাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার মতো অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে—এটিকে তারা মেনে নিতে পারছে না। এই সিদ্ধান্তকে ক্রিকেটের মূল আন্তর্জাতিক স্তরে এক কূটনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক সংকটের সূচনা হয় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতের আইপিএল থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাতে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর, বাংলাদেশের আসন্ন বিশ্বকাপ খেলার জন্য অরাজি হওয়া এবং নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি করার মতো পদক্ষেপ আইসিসির অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের জের ধরে। বিশ্বকাপের সূচি সময়ের অজুহাতে বাংলাদেশকে সরাসরি বাদ দেওয়া হয় এবং তার স্থানে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ছিল, যে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা টুর্নামেন্টের সূচি এই মুহূর্তে পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর ফলে, পাকিস্তান এখনও নিজেদের সমর্থন জোরালো করতে চাইছে, বলছে আইসিসি একপাক্ষিক হয়ে গেছে এবং বর্ণবাদী নীতিতে নিমগ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বিশ্বাস করে, ভারতের জয় শাহের প্রভাবের কারণে, যা ২০২৪ সালে আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, সংস্থাটি এখন অধিকাংশ সিদ্ধান্তে ভারতীয় অংগীভূত। পাকিস্তানের দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায়বিচার ও সমতার নীতিগুলো ভেঙে পড়েছে। তাই, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের খেলাটির বয়কটের সিদ্ধান্ত তারা জানিয়েছে, যা একদিকে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রতি পাকিস্তানের এই সংহতি ও প্রতিবাদ এই বার্তা দেয় যে, ক্রিকেটের মূলনীতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে, পাকিস্তান কোনো অন্যায্য সিদ্ধান্তের কাছে মাথা নত করবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরতিহীন উত্তাপ ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে—যার প্রভাব পড়তে পারে এই টুর্নামেন্টের স্বীকৃতি ও দর্শকদের মনোভাবের ওপর।






