বিশ্ব সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে সংগীতপ্রেমীদের মনে একটির পর একটি জয়যাত্রা স্থাপন করেছে। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ করে পুয়ের্তো রিকান তারকা ব্যাড বানি এবং মার্কিন হিপ-হপ আইকন কেনড্রিক লামার তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও অর্জন দিয়ে শোনার জন্য মনোযোগ কেড়েছেন। গত রোববার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো ডট কম অ্যারেনায় একটি বড় ও দৃষ্টিনন্দন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে স্বর্ণালি গ্রামোফোন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। এই সংগীত মহোৎসবটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডিয়ান ট্রেভর নোয়াহ ছাড়া অন্য কেউ না করে ছয় বছর ধরে সঞ্চালনা চালিয়ে আসছেন, যা এই আসরকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। এবারের গ্র্যামিতে মূলত পপ, র্যাপ এবং অল্টারনেটিভ ঘরানার সংগীতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তেমনই, ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারটি নিজেদের করে নিয়েছেন ব্যাড বানি, তাঁর ‘ডেবি তিরার মাস ফোটোস’ অ্যালবামের জন্য, যা সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অন্যদিকে, কেনড্রিক লামার ও এসজেডএ (SZA) তাদের যৌথ গান ‘লুথার’ জন্য ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’ জিতেছেন। কেনড্রিকের জন্য এটি ছিল এক বিশেষ রাত, কারণ তিনি একসঙ্গে পুরস্কার জিতেছেন ‘বেস্ট র্যাপ অ্যালবাম’, ‘বেস্ট র্যাপ পারফরম্যান্স’ ও ‘বেস্ট র্যাপ সং’ বিভাগে। তরুণ গায়িকা বিলি আইলিশ তার ‘ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার’ গানের জন্য ’সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারটি জয় করে তার প্রতিভার স্বীকৃতি প্রকাশ করেছেন। পপ সংগীতের জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ লেডি গাগা আবারও নিজের রেকর্ডের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর ‘মেহেম’ অ্যালবামের জন্য তিনি ‘বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম’ আর ‘আব্রাকাদাবরা’ গানের জন্য ‘সেরা ড্যান্স-পপ রেকর্ডিং’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংগীতপ্রেমীদের মন জয় করা নতুন শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ গায়িকা অলিভিয়া ডিন। রক সংগীতের অনুরাগীদের জন্য আকর্ষণীয় খবর হল, ব্যান্ড ‘টার্নস্টাইল’ তাদের ‘নেভার এনাফ’ অ্যালবামের জন্য ‘সেরা রক অ্যালবাম’ পুরস্কার পেয়েছে। তদ্ব্যতীত, ডোয়েচির ‘এনজাইটি’ গানটি এ বছরের ‘সেরা মিউজিক ভিডিও’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এবারের আসরে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ ছিল ‘সেরা অডিও বুক ও বর্ণনা’, যেখানে আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা তার ‘মেডিটেশন’ প্রকল্পের জন্য গ্র্যামি জিতেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হ্যারি স্টাইলস, চার্লি এক্সসিএক্স এবং শ্যাপেল রোয়ানের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা, যারা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানের জৌলুশকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারতের সংগীতশিল্পীরা এই আসরে পারফরমেন্স ও মনোনয়নে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের শক্ত অবস্থান দেখিয়েছেন। যদিও কেউ চূড়ান্ত বিজয়ী না হলেও, তাঁরা এই মনোনয়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ফিউশন সংগীত এখন বিশ্ববাজারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই আসরটি ছিল নানা শৈল্পিক ভাবনা, সংগীতের বৈচিত্র্য এবং নতুন প্রজন্ম ও পুরানো শিল্পীদের এক অনন্য সংমিশ্রণ। গ্র্যামি ২০২৬ এর পুরো আয়োজন ছিল এক শৈল্পিক উৎসব, যা সংগীতের জগতকে আরও সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত করেছে।






