বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন পর দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উচ্ছাস ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভার আগে থেকেই নেতাকর্মীরা ব্যাপক সংখ্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবর্তে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। ব্যানার, ফেস্টুন, রঙিন বেলুন ও ধানের শীষের প্রতীক দিয়ে সেজে উঠেছে পুরো মাঠ। এটি যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা এর আগে দীর্ঘ ১৬ বছর এই মাঠে এত বড় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভালো লাগা এবং উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
সমাবেশের স্থান ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। তারা বিভিন্ন পথে – লঞ্চ, ট্রলার, বাসে করে – এখানে আসছেন। মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, নারীদের জন্য আলাদা গ্যালারিও রয়েছে। ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান ও পিরোজপুরের মজিবর মোollaর মতো হাজারো নেতা-কর্মী এই জনসভা নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন, তারা দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ করার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন।
তরুণ থেকে বৃদ্ধ সকলের মধ্যেই এই সমাবেশকে ঘিরে এক অকুণ্ঠ আশার ঝলক দেখা যাচ্ছে। চরকাউয়া থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগম বলেন, তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারা এই বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় বরিশালের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় প্রতিবেদনে বলা হয়, সবাই অপেক্ষা করছেন, নেতাকর্মীরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য একসাথে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর ও ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ধানের শীষ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভিন্ন আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হতে পারে বলে ধারণা। এসব প্রতিযোগিতা যুক্ত করে, এই সমাবেশটি জোটের শক্তি প্রমাণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিএনপি নেতাদের মতে, এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। দীর্ঘ ১৬ বছর পরে এই মাঠে আবার বড় কোনো জনসভার মাধ্যমে ভোটের পরিচারনা ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্ভব বলে ইতিমধ্যে মনে করছেন রাজনৈতিক নেতারা। স্থানীয় নেতারা বলছেন, আজকের এই সাড়া এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তারা দেশে একটি সত্যিকার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য কতটা মুখিয়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সফর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের ভোটের ধরনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। পুরো বরিশাল শহর এখন স্লোগান আর মিছিলে মুখরিত হয়ে রয়েছে। এই জনসমাগমের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি হতে পারে।






