রাজধানীর পল্লবীতে একটি বাসা থেকে দুই শিশু ও তাদের অভिभাবকদের সহ মোট চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ৩ নম্বর ওয়াপদা ভবন বিহারি ক্যাম্পের একটি কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকা শোক ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ শেষে ঘটনার পেছনের কারণ তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন মাসুম (৩০), তার স্ত্রী সুমী (২৫), এবং তাদের দুই সন্তান— চার বছরের মিনহাজ ও দুই বছরের আসহাব। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময়। পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ Sোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পল্লবী থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক শাহীন আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের নিথর দেহ দেখতে পায়। তারা আরও জানায়, ঘরটি হয়তো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বা অন্য কোনোভাবে প্রবেশের পথ ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। পুলিশ মনে করছে, প্রথমে শিশুদের শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ জীবন-ending করেছেন। তবে এটি এখনও নিখুঁত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে জানা গেছে, এই পরিবারটি বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের মধ্যে ছিল। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঝগড়ার জেরেই হয়তো এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটলেও, কেউই স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। বিহারি ক্যাম্পে বসবাসকারী এই পরিবারের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এখন নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অন্য কোনো রহস্য বা তৃতীয় কারো জড়িত থাকার বিষয়টি উন্মোচন করা যায়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।






