বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের উন্নয়নের প্রণোদনা ও পরিকল্পনার কথা কেবল বিএনপি-ই বলে। তিনি বলেন, আমি অতীতে বামনার উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। যদি দল সরকারে আসে, তাহলে জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বামনার শের-ই-বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় সাধারণ মানুষের ঢল লক্ষ্য করা যায়। পুরো মাঠ প্রার্থীর জন্য উপচে পড়া জনতার ভিড়ণে মুখর ছিল। নানা বয়সের মানুষজন উচ্ছ্বাসে পাননি, ‘মনি ভাই- ধানের শীষ’ এই স্লোগানে মেতে ওঠেন।
নূরুল ইসলাম মনির বলেন, আমরা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম ও ট্র্যাক রেকর্ড দেখেছি। তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা ছিল না ও এখনও নেই। কথার ফুলঝুরিতে দেশ চলে না; মানুষ তাদের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য পরিকল্পনা চায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে থাকেন। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে গৃহিণীদের জন্য মাসিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে তাদের সংসার পরিচালনা সহজ হয় ও তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে এসেছেন, যার মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে এবং বছরে অন্তত একবার ফসলের জন্য বিনামূল্যে উপকরণ দেওয়া হবে।
মনির আরও বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তারেক রহমানের, আর প্রবাসীকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যও রয়েছে। তিনি বললেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনা কেবল বিএনপিই করে থাকেন। তিনি জনতার কাছে প্রশ্ন তোলেন—“এই উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো কি আর অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন?” এ সময় জনতার কণ্ঠে ‘না, না’ শোনা যায়, যা পুরো মাঠ প্রকম্পিত করে তোলে।
মনির বলেন, জামায়াতের কাছে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেই। তাদের এখন আসছে ‘বেহেস্তে যাওয়ার’ প্রোগ্রাম। তারা মাও-বোনদের বোঝাচ্ছে, ভোট দালে নাকি স্বয়ং বেহেস্ত পেয়ে যাবে—এমন হাস্যকর বিষয় বলে তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা উন্নয়নের কথা বলে না। আমি বলব, আমার এলাকার বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ—সবকিছুতে আমি অবদান রেখেছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, এলাকার জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই জন্য গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সকাল শুরুর সময় ভোট দিয়ে হলনা, তারপর কেন্দ্রে থেকেই ভোটের হিসাব বুঝে নিন। যেন কেউ থাকেন না ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান ও ভোট পাহারা দেন। শেষ করতে তিনি আল্লাহর কাছে সার্বিক শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন এবং এই জনসভা শেষ করেন।






