কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হওয়া ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান না ফেরার দেশে চলে গেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘ এক মাস ধরে জীবন-মরণের সাথে লড়াই করে এই নিষ্পাপ শিশুটি শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিল। হুজাইফার মামা মাহফুজুর রহমান এই দুঃখজনক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
সংক্ষেপে, গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার নিজ বাড়ির আঙিনায় বসে থাকা অবস্থায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফার মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হন। স্থানীয় হাসপাতালে প্রথমে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু আঘাতের মাত্রা বেশ গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পরেও শিশুটি রক্ষা পায়নি।
এদিকে, পূর্ববর্তী কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। রেকর্ড অনুযায়ী, মংডু টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণের জন্য এই যুদ্ধে বিমানবাহিনী, ড্রোন ও মর্টার শেল ব্যবহার হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা ও সাধারণ মানুষের উপর। সেখানে ছোড়া মর্টার শেল ও গুলির কোপে বাংলাদেশের সীমান্তে বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুর এই মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্থানীয় মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এলাকাবাসী আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এই প্রাণহানি রোধে সজাগ থাকার পাশাপাশি, সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বলবৎ করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।






