চট্টগ্রাম বন্দর আবারও কার্যক্রম বন্ধের মুখে পড়েছে, শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি সংস্থাকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে চার দফা দাবিতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আন্দোলন শুরু করে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর ফলে বন্দরের জেটিগুলোতে পণ্য ও কনটেইনারের ওঠানামা ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বন্দরে আসা হাজার হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ে বেশ কয়েকটি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হতে পারে।
শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে পরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রেলার প্রবেশ। শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বন্দর এলাকায় অবস্থান নেন। সংগঠনের অন্যতম নেতা মো. ইব্রাহীম খোকন জানিয়েছেন, সাধারণ শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সমর্থনে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময়োতে শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।
বন্দর এলাকা এখন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা কার্যক্রম চালানো হবে না। তাঁদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নতুন প্রক্রিয়ায় এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডের বদলে ফের আগের ব্যবস্থায় ফিরে আসা, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার, এবং চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার বর্তমান চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নেওয়া।
উল্লেখ্য, এই আন্দোলনের সূচনা হয় ৩১ জানুয়ারি। প্রথমে ন্যাশনালিস্ট শ্রমিক দলের উদ্যোগে শুরু হলেও পরে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা যুক্ত হন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন বন্দর পরিদর্শনে এলে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে দুই দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত হলেও, সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান না থাকায় শনিবার পুনরায় ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে বন্দরের প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ না নিলে চট্টগ্রাম বন্দরে অর্থনৈতিক ও পণ্যজটের মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে।






