আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের শেষ নিয়মিত বৈঠক। প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই বৈঠকটি বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বৈঠকের পর খুব বেশি আলোচনা ছাড়াই সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর, আর কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কোনও পরিকল্পনা এখন ছাড়াও রয়েছে। নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সভায় ব্যাপক আলোচনা হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে। বৈঠক শুরুর আগে প্রধান উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আজকের এই বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় অনুমোদনের মুখে আসতে পারে, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির খসড়া। সবকিছু ঠিক থাকলে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওয়াশিংটনে এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময়ে বড় কোনো দেশের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনি কাঠামো পুনর্বিন্যাসে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে এই সরকার ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৬৮টি নিয়মিত বৈঠকে ৫২৬টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশ বা ৪৩৯টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। আজকের এই শেষ বৈঠকে এই সকল অর্জনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়পরিকল্পনাও সূচিত করেছে সরকার। জানানো হয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর শপথ গ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। প্রশাসনিক প্রস্তুতিও চলছে যেন ফল ঘোষণার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করা যায়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার ও ক্ষমতা হস্তান্তর শেষ করার এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, আজকের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ বৈঠক দেশ ও বিশ্বে ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।






