আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর উপর অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে; তবে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকার, অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তাদের উপদেষ্টা পরিষদে থাকবেন। এই ব্যবস্থা ব্যবস্থাপনাগত ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য অব্যাহত থাকবে বলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের ও বিশেষজ্ঞদের নিশ্চিত করেছেন। আইন অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কার্যকর হবে, এর আগে এই সর্বজনীন কাজগুলো পরিচালনা করবেন বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে, যেখানে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম থাকবে। তারপর তারা স্পিকার শপথ নেবেন, ফলে একটি নতুন সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে। সংসদে প্রাথমিকভাবে নিরঙ্কুশ বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট তাদের সংসদ নেতা নির্বাচন করবে, এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। এর মাধ্যমে বঙ্গভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এই শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং এর ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব শেষ হবে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হলে, সেদিনই উপদেষ্টাদের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলেছেন, সম্ভবত ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ নতুন সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ হবে। এ সময়ের মধ্যে উপদেষ্টারা দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তারা দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা নির্দেশনা না থাকলেও, প্রচলিত পরিস্থিতি অনুযায়ী, সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টারা স্বপদে থাকবেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এক ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি গত মঙ্গলবার তাঁর শেষ দাপ্তরিক কার্যদিবস সম্পন্ন করেছেন। আইনত, নতুন মন্ত্রিসভা শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি পদে থাকলেও, নৈতিকতা ও ঘোষণা অনুযায়ী তিনি আরো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। তাঁর মতে, নির্বাচন সুস্থ ও অবাধ হলে, নতুন সরকারের আসন দ্রুত প্রস্তুত হবে এবং সেই জন্য তিনি আশাবাদী যে, যেকোনো দলের বিজয়ে সকলেই জাতির জন্য একযোগে কাজ করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায়, রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকবে। এই সময়ে দ্রুত প্রশাসনিক স্থবিরতা রোধের জন্য উপদেষ্টাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন সরকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে হবু মন্ত্রিদের জন্য ৫০টি পরিবহন গাড়ির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অপ্রতিবন্ধকতা। সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সুন্দর ও সুশৃঙ্খল এক হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে দেশ নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।






