ত্রয়োদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৯৩ রানে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে এই মুহূর্তের অন্যতম নজরকাড়া জয়ে আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে রানের বিচারে সর্বোচ্চ ব্যবধানের রেকর্ডটি তৈরি করল মার্কিন দল। টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতের ও পাকিস্তানের কাছে হারার পর ব্যাকফুটে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই জয় সুপার এইটে যাওয়ার আশা জেগিয়ে রাখল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে যুক্তরাষ্ট্র। নির্ধারিত ২০ ওভার খেলায় তারা সংগ্রহ করে ১৯৬ রান, যার বড় চালিকাশক্তি ছিলেন সাইতেজা মুক্কামাল্লা এবং শুভাম রঞ্জন। সাইতেজা মাত্র ৫১ বল খেলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। সেখানে শুভাম রঞ্জান ২৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রানে থামেন। এই দুই ব্যাটারের মধ্যটির জোড়া সেঞ্চুরি-ভিত্তিক আক্রমণ ডাচ বোলিং আক্রমণকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে। ডাচদের পেসার ফ্রেড ক্লাসেন zwar গতির বৈচিত্র্য প্রদর্শন করেছেন, তবু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটারদের ঝোড়ো প্রহার সামলাতে পারেননি।
১৯৭ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধস নামে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসে। যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও চাপধারীতার সামনে ডাচ ব্যাটিং একের পর এক ধাক্কা খায় এবং মাত্র ১৫ ওভার ৫ বলে ১০৩ রানে পুরো দল অলআউট হয়ে পড়ে। মাত্র চারজন ব্যাটারই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেন; যেখানে বাস দে লিড সর্বোচ্চ ২৩ ও অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডস করেন ২০ রান।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে হারমিত সিং একাই তুলে নেন চারটি উইকেট; ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচ করে তার এই পারফরম্যান্স তাকে ম্যাচসেরার সম্মানে ভূষিত করে। তার সঠিক লাইন-মিডল ও প্রয়োজনীয় সময়ে ভাঙা স্ট্রাইক নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।
এই ৯৩ রানের জয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি সহযোগী দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যবধানের রেকর্ড গড়ল — পূর্বের রেকর্ড ধরে রেখেছিল নেপাল, যারা ২০২৪ সালে হংকংকে ৮০ রানে হারিয়ে এই মাইলফলক দেখিয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সমগ্র দলের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানের রেকর্ডটি এখনও শ্রীলঙ্কার দখলে রয়েছে, তারা কেনিয়াকে ১৭২ রানে হারিয়েছিল।
এই বড় জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। টানা দুই পরাজয়ের পরে এমন রেকর্ডগড়া জয় মার্কিন ক্রিকেটের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে ধরা হবে।






