সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ ধামে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হচ্ছে শিব চতুর্দশী বা ‘‘মহা শিবরাত্রি’’ পালিত কার্যক্রম। এখানে পুণ্যার্থীরা সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী দিন সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত শিব স্নান, দর্শন ও পূজায় অংশ নেবেন।
এশিয়ার স্বনামধন্য সনাতনী তীর্থস্থান সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দির ভূমি-সতহ থেকে প্রায় দুইশ’ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকেও প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ সনাতনী এখানে শিব চতুর্দশীতে জমায়েত হন। অনেকেই উপবাস রেখে পায়ে হেঁটে উঁচু ও আঁকাবাঁকা রাস্তা পাড়ি দিয়ে মন্দিরে উঠেন, এখানে শিবস্নান, দর্শন ও পূজা সম্পন্ন করে আবার নীচে নেমে আসেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলা পসরা সাজিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দাঁড়ি বসেছে। জাতীয় দোকানীরা গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকেই স্থায়ী করে পসরা খুলেছেন। মেলাটির শিবচতুর্দশী-related মাথাপাঁচগানো আয়োজন তিন দিন চললেও মেলা মোটামুটি পনেরো দিন ধরে চলে এবং এটি শেষ হবে এই মেলার পরবর্তী দূল পূর্ণিমায়।
স্থানীয় পুণ্যার্থীরা ব্যাসকুণ্ডে স্নান করে পরিবারের পরকালের সুশান্তির জন্য শ্রাদ্ধ-তর্পণ করছেন। স্থানীয় পুরাকথা ও সনাতনী সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে চন্দ্রনাথ ধামে শিব চতুর্দশীর এই পূজনীয় অনুশীলন চলে আসছে।
সাইট কমিটি শোভন ও নিরাপদ মেলা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যরা তীর্থভূমিতে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন এবং সিসিটিভি মনিটরিং চলছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য অসন্তোষের ধারনাকে টেক্কা দিতে কিছু দর্শনার্থীর সংহতি-ভীতি থেকে এবারের মেলায় সাধারণত যে ভিড় হয় তার তুলনায় উপস্থিতি একটু কম অনুভূত হয়েছে। তার পরেও শনিবারের তুলনায় রবিবার চন্দ্রনাথ, ব্যাসকুণ্ড ও ভৈরব মন্দির এলাকায় তীর্থযাত্রীদের ভির বেড়ে গেছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান—মতুয়া, জেলে ও ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়দের শ্রাদ্ধ-তর্পণ ও আয়োজন চলছে।
চন্দ্রনাথ ধামের পূজারী দীপক চক্রবর্তী জানান, শিব চতুর্দশী তিথি রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে শুরু হয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে; পরে পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে। মেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী বলেন, গত শনিবার থেকে শিব চতুর্দশীর স্নান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তিনি আশা করেন এই তিনদিনে এক লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী মেলায় অংশ নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, স্রাইন কমিটির সঙ্গে সশরীরে ও অনলাইনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে; সব ধরনের নিরাপত্তা ও সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে সমাগম সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মেলা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে—নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলুন, অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করবেন।






