ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোটজালিয়াতি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আবেদন দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি ভোটের ফলাফল বাতিল এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন।
আবেদনের কাগজপত্র প্যাটওয়ারীর পক্ষ থেকে আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জমা দেন এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। পাটওয়ারী এ অভিযোগপত্রটি গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখে পাঠিয়েছিলেন।
আবেদনে পাটওয়ারী নির্দিষ্টভাবে বারোটি ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, তার দলের নেতা-কর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা ও বাতিল ভোট সংগ্রহ করে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন।
পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেছেন যে একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তারাও এসব অনিয়মে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, সুপরিকল্পিত কারচুপি ও অনিয়মের আশ্রয়ে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা না করে অন্যায়ভাবে ধানের শীষকে জয়ী করা হয়েছে। তাই তিনি এই ফলাফল বাতিল এবং মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আদেশ চেয়েছেন।
নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা মির্জা আব্বাস 57,092 ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন, আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছিলেন 51,396 ভোট। ফলাফল নিয়ে স্বচ্ছতা সন্দেহ তুলে এনসিপি এখন আইনি ও প্রশাসনিক পথে লড়াই চালাচ্ছে।
এখন নির্বাচন কমিশন থেকে কী সিদ্ধান্ত হবে এবং আবেদনের ওপর তারা কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই আগামী দিনে পরিস্থিতির রূপরেখা নির্ধারণ করবে।






