সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করা মাত্রই সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরে যাবে। তিনি এই ঘোষণা আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ ভাষণে দেন।
তবে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বাহিনী বুঝে নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহায়তাস্বরূপ মোতায়েন থাকবে। এর উদ্দেশ্য বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং স্বাভাবিক জনজীবন নিশ্চিত করা।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর ভাষণে সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে সেনাসদস্যদের ভূমিকা উচ্চাস্তুতভাবে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় অত্যন্ত প্রতিকূল ও সংবেদনশীল পরিবেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন; এজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ।’’
তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল করে তোলায় সেনাবাহিনী যে ত্যাগ ও কর্তব্যপরায়ণতা দেখিয়েছে, তাতে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি কোরআন থেকে একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃতি করেন।’
সেনাপ্রধান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বকেও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধানের এই ঘোষণা কে ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের মুহূর্তে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তনকে নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে শান্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, সেনাপ্রধানের নির্দেশ মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মনোবল বাড়াবে এবং শল্যহীন, সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরকে সহজতর করবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব সার্বিকভাবে পুলিশ-কেন্দ্রিক হওয়া প্রয়োজন এবং এটাই দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের স্বার্থে উত্তম।






