চীনে দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব চন্দ্রবর্ষ বা ‘লুনার নিউ ইয়ার’ শুরু হয়েছে। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক মানবস্থানান্তর কার্যক্রম, যা চীনা ভাষায় ‘চুনইউন’ নামে পরিচিত। লাখ লাখ মানুষ এই সময় নিজ পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ ফিরছেন নিজেদের পৈতৃক ভিটায়, আবার অনেকে এই ছুটিকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও বিদেশের গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছেন। এই বিশাল জনস্রোত দেশের পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বছর উৎসবের সূচিতে বিশেষ পরিবর্তন এনে ছুটির মেয়াদ এক দিন বাড়িয়ে মোট নয় দিন করা হয়েছে। দীর্ঘ এই ছুটির ফলে অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। শীর্ষ ভ্রমণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে দক্ষিণের উষ্ণ দ্বীপপ্রদেশ হাইনানে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বের তুষারঢাকা চাংবাই পাহাড় এখন শীতকালীন তুষার-খেলাধুলা প্রেমীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। দেশের পরিবহন ব্যবস্থা এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়ার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চীনা নাগরিকেরা এখন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চীনা পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত যাত্রার সুবিধা চালু হওয়ায় রাশিয়ার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। তবে সম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে জাপানের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে গেছে।
চীন সরকার দেশের নাগরিক뿐 নয়, বিদেশি পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৫টি দেশের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা সম্প্রসারিত করে এখন ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অবাধে চীনে ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারছেন। এই নীতি পর্যটন শিল্পের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, লুনার নিউ ইয়ারের এই উৎসব শুধু দেশীয় নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যটন ও মানবস্থানান্তরের এক অপূর্ব দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।






