দীর্ঘ সাত বছরের অনিশ্চয়তা ও লড়াইয়ের পর ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখছে নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের নতুন ছবি ‘মানুষের বাগান’। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি সম্প্রতি সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম সিনেমা হিসেবে সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সিনেমাটি, যা মুক্তির পথে এক বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
নির্মাণ ও সম্পাদনার মূল কাজটি ২০১৯ সালের শেষ দিকে সম্পন্ন হলেও নানা আইনি, আমলাতান্ত্রিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সাত বছর ছবিটি সেন্সরবোর্ড ও অন্যান্য পদ্ধতিতে আটকে ছিল। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে ‘মানুষের বাগান’ এখন পুরোপুরি মুক্তির জন্য প্রস্তুত এবং শিগগিরই একটি শুভ দিন নির্ধারণ করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ জানানো হবে। নির্মাতা আতিকের প্রতিটি কাজেই যে ভিন্ন গল্পের ছোঁয়া থাকে, এই ছবিটিও তার ব্যতিক্রম নয়—এটাই প্রযোজক ও কলাকুশলীদের অভিমত।
সিনেমাটির মূল উপজীব্য মানুষের সম্পর্কের সূক্ষ্মতা এবং জীবনের জটিল মোড়—নির্মাতা ছবিটিকে পাঁচটি ভিন্ন গল্পের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই বহুমাত্রিক আয়োজন সঞ্চালনে অংশ নিয়েছে একঝাঁক প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রী; অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, মাহমুদ আলম, প্রসুন আজাদ, দিপান্বিতা মার্টিন, ইকবাল আহমেদ, জয়রাজসহ আরও অনেকে। চলচ্চিত্রবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের এই সমন্বয় ছবিটিকে একটি ভিন্ন মাত্রা দেবে।
সংগীতেও সিনেমাটিতে রয়েছে এক বড় চমক। ছবির শিরোনামের প্রধান গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’। গানটির কথা লিখেছেন নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি পূর্বে ‘যাদুর শহর’সহ বেশ কিছু পরিচিত গান রচনার মাধ্যমে খ্যাতি পেয়েেছেন। নাহিদুরের সুরলিপি ও চিরকুটের স্বাতন্ত্র্যধর্মী কণ্ঠের সংমিশ্রণ ছবির আবহকে আরও শক্ত করবে বলে নির্মাণশিবির প্রত্যাশা করছে। আতিকের চলচ্চিত্রগুলোতে গানের ব্যবহার সবসময়ই নজর কাড়ে, এবারও তা প্রতীয়মান হওয়ার সম্ভাবনা অপরিসীম।
নূরুল আলম আতিকের জন্য দীর্ঘ সময় পর কোনো ছবি মুক্তি পাওয়া নতুন কিছু নয়—তার আগে আলোচিত ‘পেয়ারার সুবাস’ও প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত মুক্তির আগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিল। ‘লাল মোরগের জুটি’, ‘ডুব সাঁতার’ ও ‘কিত্তনখোলা’সহ তার পূর্ববর্তী কাজগুলো তাকে ঢালিউডে একজন চিন্তাশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ‘মানুষের বাগান’ মুক্তির মধ্য দিয়ে তার শৈল্পিক যাত্রায় আরেকটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হওয়ার আশায় নির্মাতা, শিল্পীরা ও দর্শকরা একসাথে অপেক্ষায় রয়েছেন।






