দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বড় বিক্ষোভের ডাক দিলেও মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিক্ষোভের কথা জানানো হলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আরেকটি বার্তায় তা বাতিল বলে জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন অনেক সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন যে দেশের চলমান পরিস্থিতি ও অস্থিরতার প্রতিবাদে বিকাল ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে এবং নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ওই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। দলের পক্ষ থেকে স্থগিতের পিছনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তাৎক্ষণিকভাবে খোলাসা করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলে এই দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকার শপথ গ্রহণের কর্মসূচি রয়েছে; ঠিক এই মুহূর্তের প্রাক্কালে জামায়াতের মতো একটি বড় দলের বিক্ষোভ ডাক দেওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সকালেই নীতিগত মতাদর্শগত বিভেদ দেখা গেছে — বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত পুনরাবেচনার কারণে কর্মসূচি বাতিল করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর অভিষেকের দিনে রাজপথে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপরের স্তর থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। দীর্ঘ সময় পরে ক্ষমতা পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল মুহূর্তে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সম্পর্কের টানাপোড়েন জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও কর্মসূচি স্থগিতের ফলে আপাতত বড় ধরনের উত্তেজনার আশঙ্কা অনেকটাই কাটল।
অবস্থা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় সর্বদিকেই নজর এখন বিকেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে, যেখানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। জামায়াতের হঠাত্ ঘোষণা ও দ্রুত স্থগিতাদেশকে রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।






