পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ২০২৪–২৫ অর্থ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ও ভ্যাট হেরফের পেয়েছেন নিরীক্ষক। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে পাওয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিরীক্ষক বলেছেন, কোম্পানিটি তাদের আর্থিক হিসাব প্রস্তুতের সময় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-এর নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।
নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোম্পানিটি সরকার থেকে পাওনা ভ্যাট হিসেবে তার বেলাতেই ৫২ কোটি ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উল্লেখ করেছে। কিন্তু ভ্যাট রিটার্ন বা মূসক ৯.১ ফর্মের সঙ্গে হিসাব মিলালে সেখানে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার অসম্পূর্ণতা (গরমিল) ধরা পড়ে। নিরীক্ষক এই ধরনের অনুপস্থিতি বা ভুল তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন।
আরও বড় অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে পণ্য বিক্রির আয়ের পরিসংখ্যানেও। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে টার্নওভার দেখানো হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, অথচ ভ্যাট রিটার্ন অনুযায়ী পণ্য বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত টার্নওভার ও ভ্যাট রিটার্নের পণ্যের পরিমানগত ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ১ লাখ টাকার। নিরীক্ষক এই বিপুল ব্যবধানকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
নিরীক্ষকের আরো উল্লেখ, কোম্পানিটি আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করে শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার টাকা রেখে দিয়েছে — যা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থগ্রহণের সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে শেয়ার ক্যাপিটালে রূপান্তর করতে হয়। এই নিয়ম লঙ্ঘন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নিয়মনীতি মেনে চলেনি বলে নিরীক্ষক মনে করেন।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট্রোলিয়ামের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং কোম্পানিটির মধ্যে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৪১.৩৩ শতাংশ। নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই অসামঞ্জস্যের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বাজারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়ার প্রতীক্ষা চলছে।
নিরীক্ষকের পর্যালোচনা কি কোনো শাস্তিমূলক বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন করবে— তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে এ ধরনের তফাৎ কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড মেনে চলার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলে ভবিষ্যতে পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আর্থিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।






