বাংলাদেশে চলমান ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনরোষের সংস্কৃতি আর কোনওভাবেই tolerated হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনজীবন ও সম্পদ বিনাশের ঘটনা আর সহ্য করা হবে না। এর পাশাপাশি, কোনো দাবি বা অভিযোগ প্রকাশের জন্য জনগণের উচিত হবে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে কথা বলা। আজ বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর ভাষণে প্রস্তুতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। নতুন সরকারের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য তার এমন কঠোর অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মিছিল, সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবারই রয়েছে। সরকার এই গণতান্ত্রিক অধিকারকে মান্য করবে, কিন্তু যাতে কেউ অশান্তি সৃষ্টি বা জনজীবন বিপর্যস্ত করার চেষ্টা না করে, সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন। অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ও ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। তিনি সকলের প্রতি ধৈর্য্য ধারণ করে, নিয়মতান্ত্রিক পথে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থ হলো পুলিশ বাহিনী। তবে বিগত সময়ে এই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সুনাম কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি লক্ষ্য রাখছেন, পুলিশের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে এবং এই বাহিনীকে সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের বন্ধু’ করে তুলতে, আগের চেয়ে আরো কার্যকর ও জনমুখী করে তোলা। যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে থানায় এসে আইনি সহায়তা পেতে পারে, তার জন্য তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এতে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা অবৈধ তদবির বরদাশত করা হবে না। পুলিশ সহ অন্যান্য সংস্থাগুলোও জনসেবায় আরও সক্রিয় ও নিয়মনীতি অনুসারে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতির অবসান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা দেন, মর্যাদা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে এবং যদি কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাহিনীকে শুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আদর্শিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দীর্ঘ দেড় দশক পর নির্বাচিত সরকারের এই সাহসী ও নিশ্ছিদ্র কথা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।






