ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী মন্ত্রিসভা গঠনে চমক দেখিয়েছে বিএনপি; কুমিল্লার তিন নেতাকে একসঙ্গে মন্ত্রণালয়ে নিয়ে এসে জেলায় উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ম, গৃহায়ন ও কৃষি খাতে কুমিল্লার প্রত্যাশিত তিন জনের নাম ঘোষণার পর সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও উদযাপনের চল চলছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
বিএনপির উপ-চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘসময় বিদেশে ছিলেন তিনি; ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরার পরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হন। তিনি ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে আড়াই-আড়াইলক্ষ ছাড়িয়ে অর্ধলাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন; ১৯৮৬ সালে হুইপ ও ১৯৮৮ সালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘দাদা ভাই নামে পরিচিত কায়কোবাদকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি—উৎসবের আমেজ চলছে সদর থেকে গ্রাম পর্যন্ত।’ জেলা জুড়ে তার নির্বাচনী জয়ে এবং মন্ত্রী হওয়ায় আনন্দ ছড়িয়েছে।
বরুড়ায় ৭৮ বছর পর মন্ত্রী
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) থেকে নির্বাচন জিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জায়গা করে নিয়েছেন জাকারিয়া তাহের সুমন। ১৯৪৮ এর ২৪ মার্চ বরুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রথম সেখানে কেউ মন্ত্রী হলেন; এ উপলক্ষে স্থানীয় রাজনৈতিক-বেসরকারি মহলে স্বতস্ফুর্ত উদযাপন শুরু হয়েছে। সুমন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বার সংসদে গিয়েছেন; তিনি ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে প্রথমবার এমপি হয়েছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি।
বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন বলেন, ‘৭৮ বছর পর আমাদের বরুড়ায় মন্ত্রী পেলাম—এবার উন্নয়নের নতুন ঢেউ আসবে, আমরা তার উৎসাহ ও সমর্থনে আছি।’
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন; তবে চেয়ারম্যানের অনুরোধে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। সমর্থকরা বলেন যে ব্যক্তিগত সম্ভাবনা থাকলেও দলকে এগিয়ে রাখতে সরে দাঁড়ানোর কারণেই তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইয়াছিন ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদে গেছেন এবং দীর্ঘদিন দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন; ২০২৫ সালের ১২ মার্চ তাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য মনোনীত করা হয়।
মন্ত্রিসভায় কুমিল্লার এই তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি জেলাজুড়ে উচ্ছ্বাস জাগিয়েছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই নিয়োগ কুমিল্লার জন্য উন্নয়নের নতুন দরজা খুলে দেবে এবং ভৌগোলিকভাবে জেলা পর্যায়ে প্রকল্প ও পরিকল্পনার বাস্তবায়নে গতি আনবে।






