ভারতীয় ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ে স্বাভাবিক ও সহজতর করার পথে অগ্রসর হচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিলেটে নিয়োজিত ভারতের রাষ্ট্রদূত বা সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানিয়েছেন, ভিসা সম্পর্কিত জটিলতা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে, সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা শিগগিরই আরও বিস্তৃত এবং সাধারণ পর্যটকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির আরও সুবিধাজনক হবে। বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
সভায় অনিরুদ্ধ দাস বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গভীর বন্ধুত্বের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক কাছাকাছি হওয়া, পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ফায়দা নিয়ে দুই দেশকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল চালিকা শক্তি হলো দুই দেশের সাধারণ মানুষ, তাই দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশংসা করে সহকারী হাই комисলার বলেন, সত্য ও গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশন দ্বিপক্ষীয় ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ক জোরদার করতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জানান, তথ্যের স্বচ্ছতা থাকলে ভিসা প্রক্রিয়া এবং নাগরিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজ হবে। বক্তারা ভারত সরকারের ‘এইড টু বাংলাদেশ’ এবং ‘এলওসি’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট অঞ্চলে আরও বিভিন্ন আঞ্চলিক উন্নয়নমূলক কাজের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁরা মনে করেন, এই দুই দেশের ঐতিহাসিক ও আত্মিক বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের প্রেস-ইনফরমেশন, শিক্ষা ও কালচার শাখার সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া প্রমুখ। সভার শেষ পর্যায়ে সহকারী হাই কমিশনার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সিলেটের উন্নয়নসহ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর দপ্তরের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। এই মতবিনিময় সভা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এক ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।






