মার্কিন প্রশাসন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত বর্তমান শুল্ক বজায় রেখে তা প্রয়োগের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক জটিলতা সরিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে। মঙ্গলবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, শুল্কের হার না কমিয়ে আমদানিকারক ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পদ্ধতিগত সহজীকরণ করার ওপর সরকার নজর দিচ্ছে।
গ্রিয়ার ব্যাখ্যা করেছেন যে, বর্তমানে শুল্ক সংক্রান্ত জটিল নিয়ম-কানুন মেনে চলার জন্য অনেক কোম্পানি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করছে এবং অপারেশনাল সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে। মার্কিন সরকার চায় না ব্যবসায়ীরা দাপ্তরিক কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকুন যে তাদের মূল উৎপাদন ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তাই শুল্ক প্রয়োগের পদ্ধতিকে সহজতর ও গতিশীল করে দপ্তরি ঝক্কি কমানো হচ্ছে—যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
বাণিজ্য প্রতিনিধির মতে, শুল্কনীতিই সামগ্রিকভাবে সফল হয়েছে—এর ফলে অভ্যন্তরীণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, অন্যান্য দেশও বাণিজ্যগত বিঘ্নকতা সরাতে বাধ্য হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন রপ্তানি সক্ষমতা বাড়তে শুরু করেছে; মূল্যস্ফীতিও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই সফলতার প্রেক্ষিতে শুল্ক আলাদা করে তুলে না রেখে এর প্রশাসনিক অংশ সংশোধনের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, গত বছর চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা মোকাবিলা ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার বিদেশী ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে ধাতু থেকে তৈরি বিভিন্ন ফিনিশড পণ্যেও শুল্কের পরিধি বাড়ানো হয়। এর ফলে আমদানিকৃত পণ্যের কাঁচামাল উৎস নির্ণয় ও অনুপাত হিসাব করা কঠিন ও ব্যয়সাধ্য হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন এখন সেই জটিলতা দূর করে ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিবর্তনগুলো ভাবছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশাসনিক সহজীকরণ বাস্তবায়িত হলে আমদানির গতি ও দক্ষতা বাড়বে এবং উৎপাদন খাত আরও শক্তিশালী হবে।






