মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রভাতে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাডেমিতে নবনির্মিত বিশাল ফ্ল্যাগপোল উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন করতে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আনসার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা স্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। একাডেমি প্রাঙ্গণে নির্মিত এই উঁচু স্তম্ভে উত্তোলিত জাতীয় পতাকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘চির উচ্চতর বিজয় নিশান’।
উচ্চতা অনুযায়ী এটি বাংলার সর্বোচ্চ পতাকা স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত। এর উচ্চতা ১২০ ফুট, যেখানে পতাকার দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট ও প্রস্থ ১৬.৮ ফুট। এই পতাকা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমতা ও মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন গৌরবের প্রতীক হিসেবে থাকছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দেশের বৃহত্তর জনসম্পৃক্ত বাহিনী হিসেবে জাতীয় অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই বাহিনী প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছে, যা সব বাহিনী মধ্যে সর্বাধিক।
তিনি আরও যোগ করেন, আজ ভাষা শহীদদের স্মরণে এই দিন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা সৈনিক আব্দুল জব্বার এই বাহিনীর একজন গর্বিত প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তার আত্মত্যাগ আমাদের সকলের জন্য দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের প্রেরণা।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, ‘চির উচ্চতর বিজয় নিশান’ আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই পতাকা আমাদের শপথ করাবে— দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই পতাকা উদ্বোধন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা, আত্মমর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের শক্তিশালী স্মারক। তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, এই চেতনাকে ধারণ করে পেশাদারিতা, শৃঙ্খলা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে।
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে নির্মিত ‘চির উচ্চতর বিজয় নিশান’ কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়, এটি জাতির অগ্রযাত্রা, আত্মত্যাগ ও সাহসের দৃঢ় প্রতীক। একাডেমির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনী আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিনম্রভাবে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।






