নোবেল বিজয়ী বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবারও তাঁর পুরোনো কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ ১৮ মাস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর আজ রোববার সকালেই তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তাঁর জন্য পুরো পরিবেশই হয়ে ওঠে আবেগঘন এবং আন্তরিক। তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টারা তাঁকে ফুলের তোড়া এবং উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে গড়িয়ে দেন। নিজের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসার এই আনন্দের খবর নিজেই তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ছবি সহ পোস্ট করে দেশবাসীর কাছে নিশ্চিত করেছেন।
ইউনূস সেন্টারে পৌঁছানোর পরে ড. ইউনূস তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের বর্তমান পরিস্থিতির উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি খুবই খুশি বোধ করছেন বলে জানান। উপস্থিত কর্মীরা তাঁদের প্রিয় ‘স্যার’কে আবারো কাছ থেকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব আন্দোলনের পর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশের পরিস্থিতি ধীরেধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং শেষমেশ নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ট্রান্সফার করে তাঁর রাষ্ট্রীয় মিশন সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পাল্টে যাওয়ার পাশাপাশি ড. ইউনূস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ও বাসস্থানে এক বড় পরিবর্তন আনছেন। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবন যমুনা নগরে থাকলেও চলতি মাসের শেষে তাঁরা স্থায়ীভাবে গুলশানে নিজ বাসভবনে ফিরে যাবার পরিকল্পনা করেছেন। এর আগে তিনি তাঁর বিশেষ ‘লাল পাসপোর্ট’ বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন, যা তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনে ফিরার এক অনন্য নজির। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি নতুন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল জেতা এই বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবীদকে পুরোনো ঠিকানায় ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের এই প্রত্যাবর্তনে গ্রামীণ এলাকার প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণবন্ততা ফিরে এসেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব শেষ করে তিনি আবারও দারিদ্র্য মুক্ত, বেকারত্বের হার শূন্য, ও কার্বন নির্গমন শূন্য করার তাঁর ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বের আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসারে মনোযোগ দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও নিজ স্থান ফিরে পেয়েছেন এই প্রবীণ পথপ্রদর্শক, যিনি তার জীবনের মহান উদ্দেশ্যকে নতুন করে ধারন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।






