সরকার প্রাথমিকভাবে দুর্গম চরাঞ্চল ও উপকূলীয় ৮ উপজেলার জন্য নতুন একটি প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সুরক্ষা এবং কল্যাণ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা এক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটির গঠন নিশ্চিত করা হয়, যেখানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের সম্মিলিত দল রয়েছে। এই কমিটি দেশের ৮ বিভাগের ৮ উপজেলায় পাইলট আকারে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করছে। শুরুর পর্যায়ে বিশেষ করে ঝুঁকিপ্রাপ্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এ সুবিধা চালু থাকবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগটি সমাজে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত কমিটিতে অর্থ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা থাকছেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সচিবগণ এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই কমিটিকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
কমিটির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ, এবং ৮টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে কার্ড চালুর ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি, নারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের মধ্যে থেকে কোনটি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় তা পর্যালোচনা করা হবে। সুবিধাভোগীদের ডাটাবেস তৈরি করতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় হাউজহোল্ড ডাটাবেসের মাধ্যমে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (MIS) প্রস্তুত করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে উপকার পাওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে।






