আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, একটি নতুন নির্বাচিত সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া এটি কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তিনি Monday তার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন। তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাঁদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা সংবিধান ও আইনগত দিক থেকেও স্বীকার্য। তিনি এই পদে থাকা সময়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার নতুন নেতৃত্ব নিয়ে এসেছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে, প্রয়োজন হলে আইনগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর একমাত্র চাওয়া, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবে থেমে না যায়। গুঞ্জন ছিল, তিনি পদত্যাগ করবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে আসলে প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই। শুরুতে তাঁকে বর্তমান ধারায় থাকার কথা বলা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নবনিয়োগের প্রক্রিয়া সামনে আসে। তিনি তার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেও, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে পরামর্শ পেয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বাস দেয়, নতুন কেউ দায়িত্ব নিলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। এ কারণে, কোনো ভুল বার্তা না যাক এই ভেবে, তিনি নিজে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাঁর বিশ্বাস, সংগৃহীত প্রমাণাদি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। দাবি করেন, ট্রাইব্যুনাল যে প্রমাণাদি হাজির করেছে, তার ভিত্তিতে পৃথিবীর যেকোনো আদালতে বিচার হলে আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি অনায়াসে নিশ্চিত। তাঁর ভাষায়, পুরো প্রসিকিউশন দল খুবই সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে। দায়িত্ব শেষ করে তিনি আবার সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইন পেশায় ফিরে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।






