ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে চাঁদাবাজি উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মতিঝিলের ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাঁদাবাজি প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শিরোনাম ছিল ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’। তাসকীন আহমেদ বলেন, চাঁদাবাজি কে করে তা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে—তবে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এ কাজে জড়িত থাকতে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এসে বলে আমরা সরকারি দলের লোক; যখনই যে সরকার আসে, তখনই দাবি করে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদেরকে চাঁদা দিতে হবে—এভাবে নানা অনুষ্ঠানের নামে, পাড়ার নাম করে এবং ব্যবসায় প্রবেশের সময়ই চাঁদা দাবি করা হয়।’ রাস্তায় অফিস-কার্যালয়ে এমন চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসার পরিবেশ টিকে থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
ডিসিসিআই সভাপতির বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি কার্যকরভাবে চালাতে চারটি অগ্রাধিকারযুক্ত কাজের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা দ্রুতভাবে শক্ত করা এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
তৃতীয়ত, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপি নয়, তাদেরকে পুনরায় ব্যবসা শুরু করার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) দিয়ে সহায়তা করা। চতুর্থত, ব্যাংকের সুদহারকে যুক্তিসঙ্গত ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা—বর্তমানে ব্যাংক সুদহার তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় থাকলে অর্থনীতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পরও দুর্নীতি থেমে যায়নি; অনেক ক্ষেত্রে তা আগের চেয়ে বেড়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস—বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে; এগুলো না রোধ করলে অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের কথা ভাবতে হবে।
ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে ডিসিসিআই সুপারিশ করেছে, পুঁজিবাজারে মানসম্মত কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং ‘গ্রিন চ্যানেল’ তৈরি করে সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি চূড়ান্ত তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া শুল্ক (ট্যারিফ) চুক্তির ব্যবসাসংক্রান্ত ধারাগুলো প্রকাশ করারও দাবি জানান, যাতে ব্যবসায়ীরা অভিযোজিত হতে পারে এবং চুক্তির সুযোগ-সুবিধা বুঝে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো যায়।






