আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার শুভ উদ্বোধন হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এই বছর মেলার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’, যা দেশের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধিকে তুলে ধরবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
বইমেলা ২০২৬ এর পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা জানান, মার্চের এ উৎসবের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বই ও বইমেলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছর মেলা দেশের সম্ভাবনাগুলো আলোকিত করবে এবং পাঠকদের মধ্যে জ্ঞানের অঙ্গন আরও প্রসারিত করবে।
এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে ৮১টি স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে রয়েছে ৪৬৮টি। গত বছরের তুলনায় এবারের মেলায় মোট স্টলের সংখ্যা বেড়েছে, যা পূর্বের ৭০৮ থেকে এখন ১০১৮ এ পৌঁছেছে।
মেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরটি অবস্থিত সোহরাওয়ার্দীর উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে গাছতলায়, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের স্টল স্থাপন করা হয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান এবং মোট ইউনিট ১০৭টি।
বইমেলার বিন্যাস বেশিরভাগই গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে, তবে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেমন মেট্রোরেলের অবস্থানের কারণে মেলা প্রবেশপথ স্থানান্তরিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রবেশপথ ও বাহিরপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া খাবার স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের পাশে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এখানে নাস্তার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিষেবা চালু থাকবে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবির ব্যবস্থা থাকবে। শিশুমঞ্চে শিশুরা সহজে বিচরণ ও বই সংগ্রহ করতে পারবে, পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক প্রতিযোগিতার আয়োজন চলবে।
নিরাপত্তার জন্য প্রবেশ ও বহির্গমনের জন্য পর্যাপ্ত আর্চ প্রস্তত করা হয়েছে। মেলা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করবে। এলাকাজুড়ে ক্যামেরা এবং আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। মেলা পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখতে নিয়মিত পানি ছিটানো ও মশক নিধন কার্যক্রম চলবে।
বইমেলায় ২০২৫ সালে প্রকাশিত সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশকদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই পুরস্কার, ও কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার। এছাড়াও, নতুন অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের জন্য সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার চালু করা হয়েছে, যা বইয়ের গুণমানে শীর্ষ স্থান অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।
বইমেলার সময়সূচি ঘোষণা করে জানানো হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে, ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৯টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮টার পরে নতুন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং জিরো ওয়েস্ট কালচারে অংশ নিতে, এ বছর সম্পূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সব স্টল, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা পুনঃব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে অমর একুশে বইমেলাকে সম্পূর্ণ পলিথিনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বাংলা লিমিটেড এই বছর মেলার ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে কাজ করবে, যাতে এই মহাজনক দীর্ঘায়িত ও সফল হয়।






