জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ক্যাটালগ থেকে উপহার বিতরণের ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লিডিং পার্টি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) বিশাল বিজয়ের পর তিনি সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপহার বিতরণ করেন—যার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছে, ৩০০-এর বেশি এলডিপি আইনপ্রণেতাকে একটি ক্যাটালগ থেকে নিজেদের পছন্দমতো উপহার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন, কঠিন নির্বাচনে তাদের সাফল্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো করদাতার অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী একই পোস্টে জানিয়েছেন, প্রতিটি উপহারের মূল্য, পরিবহন খরচ ও করসহ মোট খরচ ছিল প্রায় ৩০ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৯০ ডলার), এবং এই অর্থ পরিশোধ হয়েছে নারা প্রদেশভিত্তিক এলডিপি শাখার রাজনৈতিক তহবিল থেকে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ওই উপহারগুলো ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের কাজে সহায়ক হবে।
তবে বিরোধীরা বলছেন, সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারা এমন উপহার বিতরণ জনগণের সন্দেহ বাড়াচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্সের নেতা জুনিয়া ওগাওয়া বলেছেন, এই জেলার ঘটনার খবরে সাধারণ মানুষ সহজেই বলতে বাধ্য হবে—‘প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, আপনিও?’ এবং তিনি দাবি করেছেন যে তাকাইচিকে এ বিষয়ে কঠোরভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি করা উচিত।
এই ঘটনা ২০২৩ সালের এলডিপি তহবিল কেলেঙ্কারির স্মৃতি উস্কে দিয়েছে; সেই কেলেঙ্কারির জেরে 당시 প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পদত্যাগের পথে ছিলেন। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন জোট গত বছর পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।
এর আগেও গত মার্চে শিগেরু ইশিবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের অর্থে ১৫ জন নবনির্বাচিত নিম্নকক্ষ সদস্যকে ১ লাখ ইয়েন মূল্যের উপহার সনদ বিতরণ করেছেন—যার ফলে রাজনৈতিক তহবিল এবং উপহারের বিতরণ নিয়ে সতর্কতা বেড়েছে।
জাপানের রাজনৈতিক তহবিল আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকেই সরাসরি প্রার্থীকে অনুদান দেওয়া যায় না; তবু রাজনৈতিক দল বা তাদের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে অনুদান দেওয়া আইনসম্মত। তবু বিরোধীরা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের উপহার বিতরণ রাজনৈতিক অনুশাসন ও জবাবদিহির প্রশ্ন তোলে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন তদন্ত বা সংসদে জবাবদিহির দাবি তোলা হচ্ছে এবং রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন এলডিপি ও সম্পর্কিত স্থানীয় শাখাগুলো কিভাবে উদঘাটন ও ব্যাখ্যা করবেন, সেটাই আগামী দিনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়াবে।






