প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
আইজিপির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এক নতুন পর্ব শুরু হলো বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আইজিপি হওয়া পর্যন্ত তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বহু বছর ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবু তাঁর কর্মজীবন রাজনৈতিক ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে গেছে—গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাকে প্রথমে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেশাগত জীবনের বাইরে থাকায় কেরিয়ার বানচাল হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পর ঘটতে থাকা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ভাগ্য বদলায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন, শুরুতে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পুনর্বহাল হন এবং পরে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিআইজি থেকে দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদ আইজিপি পর্যন্ত ওঠেন।
অনেকে এটিকে ন্যায়বিচার ও পেশাদারিত্বের জয় হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও পুনর্গঠন পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে তাঁর নিয়োগ বাহিনীকে আরও গতিশীল ও স্থিতিশীল করার আশা জাগিয়েছে।






