বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন এক অর্জন দেখা গেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার থেকে সুদৃঢ় ডলার সংগ্রহের ফলে সোমবার শেষে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ আবার ৩৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে উঠেছে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো। এটি দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দেয়।
প্রায় তিন বছর আগে, ২০২২ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে যায়। এর পর থেকে ধারাবাহিক পতনের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। তখন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রিজার্ভ শতভাগের উপরে থাকলেও সরকারের পতনের সময় তা কমে দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বাজার থেকে আরও ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪৭ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ১৫৪ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ফলে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বজায় থাকছে ও দেশের অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
আমদানি-রফতানি ও অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এর আগে, জানুয়ারি মাসে এই পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে সক্ষম হয়। ২০২৩ সালের জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যত তথ্য প্রকাশ করে, তাতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হলো, ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা কারণে তা কমতে শুরু করে। অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্য জুন ২০২২ সালে এই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে রিজার্ভের সমস্ত শক্তি যোগিয়ে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
অন্যদিকে, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো মোট অর্থ দাঁড়িয়েছে ২৫৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। এভাবেই, এখন পর্যন্ত মোট প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এসব উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






