বলিউডে বছরের পুরো সময়ে বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক সিনেমা মুক্তি পেলেও মূলতঃ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, যোদ্ধা, খেলোয়াড় বা অপরাধীদের গল্পই বেশি দেখানো হয়। এর চেয়ে সংগীতশিল্পীদের জীবনী নিয়ে সিনেমার সংখ্যা তুলনামূলক কম। অনেক বছর ধরে নির্মাতা অনুরাগ বসু কিশোর কুমারের জীবননির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন, যেখানে আমির খানের থাকার খবর শোনা গেলেও এখনো এর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। এরই মাঝে খবর মিলেছে যে, উপমহাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত সংগীত পরিচালকদের একজন রাহুল দেববর্মনের জীবনকথা এবার পর্দায় তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই অসাধারণ সংগীত ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নির্মিত হবে এক मिसাল ভরপুর বায়োপিক। এর কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখছেন জনপ্রিয় পরিচালক নীরাজ পাণ্ডে, যিনি এর আগে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ তৈরি করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা গেছে, নীরাজ ইতোমধ্যে এই বায়োপিকের চিত্রনাট্য সম্পন্ন করেছেন। এমনকী, শুটিংয়ের জন্য স্কটল্যান্ড ও বুদাপেস্টের বিভিন্ন লোকেশনও নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিনেমায় ভারতের পাশাপাশি ইউরোপের এসব দেশেও রাহুল দেববর্মনের সংগীত সফরের ঘটনাগুলো ফুটিয়ে তোলা হবে। তবে এখনো নিশ্চিত হয়নি, এই কিংবদন্তির চরিত্রে কোন অভিনেতা অভিনয় করবেন। জানা গেছে, বলিউডের শীর্ষ পর্যায়ের এক অভিনেতাকে এই চরিত্রে নেওয়ার কথাবার্তা চলছে। শিডিউল অনুযায়ী, শুটিংয়ের দিনক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাহুল দেববর্মন, যাকে উপমহাদেশের প্রখ্যাত গায়ক ও সংগীত পরিচালক শচীন দেববর্মনের একমাত্র সন্তান হিসেবে চেনে, তার জন্ম ১৯৩৯ সালের ২৭ জুন কলকাতায়। ১৯৬১ সালে অভিনেতা মেহমুদ প্রযোজিত ‘ছোটে নবাব’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি সংগীত পরিচালনায় নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। তার নির্মিত অসংখ্য কালজয়ী গান যেমন ‘আজা আজা’, ‘চুরা লিয়া’, ‘দম মারো দম’, ‘বাঁচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘ও হাসিনা জুলফোওয়ালি’, ‘ইয়ে দোস্তি’, ‘ভিগি ভিগি রাতো মে’ ইত্যাদি অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় তিনশোর বেশি সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে অনেক বাংলা ভাষায় তৈরী সিনেমাও রয়েছে। নতুন ধারার সুর ও বৈচিত্র্য এনে দানকার এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জীবনী অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অগণিত ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীরা এই খবরে উল্লসিত। এই লাইফস্টাইল ও সৃষ্টিশীলতার জীবনী স্ক্রিনে তুলে ধরা সত্যিই একটি সুন্দর উদ্যোগ, যা বাংলাসহ সমগ্র উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য উপহার হবে।






