অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তির লক্ষ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্ষদ বৈঠক চলাকালীন বাংলাদেশ এই অবস্থান পেশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড সংযুক্তির এই আইন গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মুক্তি সংগ্রামের জন্য অনুকূল নয়। তিনি আরও বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত ভিত্তিক পূর্ব জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় ও নিবন্ধনের সহজতর পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনিদের জন্য ভয়ভীতি ও হয়রানির সূচনা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং স্থায়ী শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে এক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাই এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান। এ ছাড়া, তিনি ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার রক্ষায় ইসরায়েলের ভূমি আইন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের অবাধ ও অশর্ত প্রবেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর দাবিও জানান বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন সরকারের প্রতি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। বৈঠকের সাইডলাইনে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া ও সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকর্তা দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সফলতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিজয়কে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং ওআইসি সচিবালয়ের কার্যক্রমের উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, জাতির পক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রার্থীতা ও সমর্থনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব এম ফোরহাদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের ওআইসিতে স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।






