ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন হবে সমসাময়িক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দড়াই, তাই মাঠে কোনোভাবেই যেন কোনো অংশের স্থান খালি না থাকে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতের আয়োজন শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবিরে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বললেন, জাতীয় নির্বাচনের পরই এ দিক থেকে দ্বিতীয় বড় রাজনৈতিক সমর হবে। এজন্য দল তাদের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বললেন, যারা নির্বাচনে ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে ছিলেন, তাঁদের জন্য সমাজের বিভিন্ন স্থানে যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, করোনা মহামারির কারণে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে জামায়াত অনেকটাই বঞ্চিত হয়েছে। আসলে, কিছু নেতা জানিয়েছেন, জামায়াত হারেনি, বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতিক নির্বাচনে জামায়াতের দল সবচেয়ে বড় সফলতা অর্জন করেছে, যেখানে মূলত তিনটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। প্রথমত, প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তারা বিরোধীদল হিসেবে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তৃতীয়ত, এই দলের উপর ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হয়েছে।
টিআইবি ও সুজনের মতপ্রকাশ তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন শুধু জামায়াত নয়, বিভিন্ন পক্ষ নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলছে। এর ফলস্বরূপ, দলীয় নেতাকর্মীদের নতুন কৌশল প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকার বস্তি এলাকায় বড় সংরক্ষণ দেওয়া হলেও, দুর্নীতি, ওয়াদা বা সন্ত্রাসের চিহ্ন দেখা যায়নি বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, এই সব ঘটনা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। তিনি বারবার বলেন, তারা থামবেন না।
এসময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। এরপর নগরীর বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদে জুমার নামায শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের কিছু মন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাষায় আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং অপরাধ প্রবৃদ্ধি উসকে দিচ্ছে। এ বিষয়টি অব্যাহত থাকলে দেশের ক্ষতি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অভিষেকের প্রশ্নে এদিন তিনি দ্রুত মন্তব্য না করলেও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে তিনি সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের পক্ষে যেন কোনো মন্ত্রী কেউ Stimmen না দেন। স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সরকারই পারবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে, আর এতে জামায়াতও সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন বিরোধীদলীয় নেতা।






