পবিত্র মাহে রমজানের নবম দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাজারগুলোতে খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা কমে অস্থিরতা কেটেছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ ও অন্যান্য সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি সব ধরণের মাছ ও প্রাণিজ প্রাপ্তির দামের কিছুটা নিম্নগামী প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষণে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতকালীন সবজির কেজিতে দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। টমেটো ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, সালগম ৬০ টাকা, ফুলকপি বড় সাইজে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, কচুর লতি ১০০-১২০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, ঢেঁড়স ১২০ টাকা, কচুরমুখী ১০০-১২০ টাকা, ও ধুন্দল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের দাম ৪০ টাকা কমে কেজিতে ১২০ থেকে ১৬০ টাকার মাঝে উঠেছে। পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া ও দেশি শসা মনভেদে ৪০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আঙুর, মাল্টা ও আপেলসহ বিদেশি ফলের বাজারে দাম বেড়েছে; মাল্টা ৩১০-৩৪০ টাকা, আপেল ৩৩০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুর ও অন্যান্য ফলের দামও সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফলের মধ্যে পেয়ারার কেজি ১০০-১৫০ টাকা, আনারসের পিস ৪০-৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তরমুজের বাজারে আগাম দাম ৭০-৯০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।|
কৃষিপণ্য ও মাছের বাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইলিশ মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য মাছের দাম কিছুটা কমেছে। যেমন, কেজিতে শিং মাছ ৩৫০-৫৫০ টাকা, রুই ৪০০-৫৫০ টাকা, বড় কাতল ৪০০-৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, কাঁকড়ি ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০-৪০০ টাকা, আর খাসির মাংস ১২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে লাল ডিম ১০০-১১০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির হালি ১০০ টাকা ও সোনালি মুরগির হালি ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
ফলের বাজারে, বিশেষ করে রোজার সময়ের জন্য খুব জনপ্রিয় কলা, মাল্টা ও আঙুরের দামের বাড়বাড়ন্ত অব্যাহত। ডজনপ্রতি কলা ৪০-৬০ টাকা, চাঁপা কলা ১০০ টাকা, সবরি কলা ১৬০-১৮০ টাকা, বাংলা কলা ১৪০-১৬০ টাকা বিক্রি। আবার, আনারস পিস ৪০-৬০ টাকা এবং আঙুর সবুজ ৪২০-৪৫০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাঙালির রোজার আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ফলের বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। চাঁপা ও অন্যান্য ফলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও মৌসুমের শুরুতে বাজার স্বস্তির দিকে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামসহ দেশের বাজারে সবজির দাম কমে আসায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তির ঢেউ পড়েছে। সাত দিনের ব্যবধানে সবজির কেজি মূল্য ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে গেছে। আগের সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দামও কমে ২০ টাকা।
ক্রেতাদের মন্তব্য, রমজানের শুরুতে পণ্যের দাম বাড়ে, কিন্তু বেশ কিছু দিন পর বাজারে স্বস্তি আসতে শুরু করে। অর্থাৎ, বাজারের এই ধরণ চলমান থাকলে পরিস্থিতিক আরও উন্নতি হতে পারে। 정부 ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে পরিস্থিতির আরো উন্নতি আশা করছে সাধারণ ক্রেতারা।






