যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গত মাসে কর্মসংস্থানের সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে কমে গেছে, যা দেশের শ্রমবাজারে নতুন করে দুর্বলতার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মার্চ মাসে দেশটিতে পে-রোল বা নিয়োগের সংখ্যা ৯২ হাজার কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪ শতাংশে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি।
কর্মসংস্থান কমার অর্থ হলো, চাকরির সংখ্যা বা শ্রমবাজারে কর্মরত মানুষের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এর আগেও অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের গতি ধীর হতে পারে। রয়টার্সের একটি জরিপেও একই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে নিয়োগের গতি কমলেও বেকারত্বের হার ৪.৩ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরের সাময়িক শাটডাউনের পর ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান হ্রাসের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব অর্থনীতির উদ্বেগের প্রভাব এখন মার্কিন শ্রমবাজারেও স্পষ্ট হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ খাতেই কর্মসংস্থান কমেছে। এমনকি দেশের অন্যতম শক্তিশালী খাত হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পতন হয়েছে, যেখানে ব্যাপক ধর্মঘটের কারণে হাজার হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছেন।
শ্রম দপ্তর এর তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্চ মাসে ফেডারেল সরকারের কর্মসংস্থান প্রায় ১০ হাজার কমেছে, এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারের মোট কর্মসংস্থান প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার বা প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আরও উল্লেখ্য, শুধু সাম্প্রতিক মাসই নয়, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, তার বাস্তব চিত্র ততটা optimistic ছিল না।
তবুও শ্রমবাজারের এই সংকটজনক পরিস্থিতির মাঝে আশাবাদ দেখছেন কেভিন হ্যাসেট। মার্কিন ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের এই কর্মকর্তা সিএনবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পরবর্তী মাসগুলোতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন নতুন উদ্যোগ শুরু হচ্ছে, ফলে প্রত্যেকেই উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পাবেন।’





