আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের শান্তিপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে সেতু বিভাগের সচিব যমুনা সেতু এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো তিনি খুঁটিয়ে দেখেন।
সোমবার (৯ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের নির্দেশনায় এই পরিদর্শন সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সেতু বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ঠিকাদার।
সচিব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে দেশের মানুষের যাতায়াত যেন নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়, সেই লক্ষ্যেই সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশে জনসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা কঠোরভাবে তদারকি করছি।”
পরিদর্শনের সময় এলেঙ্গায় নির্মিত নতুন বাস-বে এলাকাও দেখেন সচিব। তিনি যানজট এড়াতে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে চালকদের অনুরোধ করেন যেন তারা নির্ধারিত বাস-বে-ই যানবাহন বাড়াতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেন।
এছাড়াও, সচিব টোল প্লাজায় যানবাহনের দ্রুত গমন এবং সাইনবোর্ড ব্যবস্থা দেখে সন্তুষ্ট হন। টোল আদায়ের জন্য ডিজিটাল ও অটোমেটেড পদ্ধতি কার্যকর করতে নির্দেশ দেন এবং ওভারটেকিং বন্ধের জন্য সাইনবোর্ড ও ব্যারিয়ার স্থাপনের উপদেশ দেন।
যানবাহন বা দুর্ঘটনা পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ভারী রেকার ব্যবহারের ওপর নজরদারির নির্দেশনা দেন। পরে যমুনা সেতুর স্ট্যাক ইয়ার্ড পরিদর্শন করে তিনি অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং সংস্থানগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
সেতুর পট বিয়ারিং এর সংস্কার ও প্রতিস্থাপন কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন। রেল সেতু চালুর পর মূল সেতুর রেল ট্র্যাক অপসারণের কাজও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন ও সংশ্লিষ্ট টিমকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সেসেক-২ প্রকল্পের অন্তর্গত চার লেন সড়ক ও ফ্লাইওভারের নির্মাণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা জরুরি। ইতোমধ্যেই বিটুমিনাসের কাজ শেষের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং আগামী ২৫ রমজানের মধ্যে যানচলচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আব্দুল্লাহপুর জংশনের ট্রাফিক ব্যবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন তিনি। যানজট কমাতে এই জংশনের সংস্কার ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরিদর্শন শেষে সচিব বলেন, “যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্পের অবদান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জনগণের জীবনমান উন্নতিতে অপরিসীম। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সকল প্রকল্পের কাজ মান সম্পন্ন আরও দ্রুত শেষ করতে হবে। বিশেষ করে, নির্মাণের সময় জনভোগান্তি কমানোর দিকে নজর দিতে হবে।”




