ওপার বাংলার চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের পরিচিত ও বহুমুখী শিল্পী তমাল রায়চৌধুরীর প্রয়াণে টলিউডে গভীর শোক নেমে এসেছে। সোমবার ভোররাতে ঘুমেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। তাঁর আকস্মিক প্রস্থানকে বাংলা বিনোদন জগতের এক বড় ক্ষতি হিসেবে মনে করছেন সহকর্মী ও অনুরাগীরা।
পারিবারিক সূত্রে পরবর্তী খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোরে উঠার অভ্যাস থাকা সত্ত্বেও আজ সকালে তিনি সময়মতো সাড়া দেননি। পরিচারিকা দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানানো হয়। চিকিৎসক এসে তাঁকে মতপ্রায় মৃত ঘোষণা করেন। প্রথম শোকবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেন অভিনেতা দেবদূত ঘোষ; তিনি জানান, তমাল রায়চৌধুরী শান্তি সহকারে ঘুমিয়ে চলে গেছেন এবং কোনো বড় কষ্ট পাননি বলে লিখেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তমাল রায়চৌধুরী হৃদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন; এমনকি তাঁর হৃদয়ে পেসমেকারও বসানো হয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি অভিনয় থেকে একদিকে যেমন একটু দূরে ছিলেন, তেমনি কাজও সীমিত রেখেছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হওয়াকে প্রধান ধরে দেখা হচ্ছে।
অভিনয়জীবনে তমাল রায়চৌধুরী অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রাণ ওঠা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে শুরু করে ‘চ্যালেঞ্জ’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জাতিস্মর’, নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রামধনু’—এসব ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা ছাপ রেখেছে। ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘অ্যামাজন অভিযান’ জাতীয় ব্লকবাস্টার ছবিতেও তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁকে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র ‘ভটভটি’-তে।
চলচ্চিত্র ও থিয়েটার মহলে অনেকে তাঁর বিনয়ী স্বভাব, পরিমিত অভিনয়শৈলী এবং দুর্দান্ত পেশাদারিত্বের কথা স্মরণ করছেন। সহকর্মীরা বলেছেন, তিনি একজন মেধাবী ও পরিশীলিত অভিনেতা ছিলেন, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।
ধর্মীয় ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে আজ বিকেল ৪টায় তমাল রায়চৌধুরীর মরদেহ কোলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের শোবিশেষ কলাকুশলী ও ভক্তরা শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
তমাল রায়চৌধুরীর যুক্তিযুক্ত ও সংযত অভিনয়, শান্ত চরিত্র ও সংস্কৃতি-প্রতি তাঁর অবদান বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় থাকবে। এই দুঃসময় উত্তরণে পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা এবং শিল্পী মহলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি রইল।






