আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এই ধারের রাস্তায় বাড়তি চাপ ও চলমান সংস্কার কাজ মিলিয়ে চালকরাও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে চিন্তিত।
মহাসড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে চলে। কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা, কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বারসহ দাউদকান্দি ও চান্দিনার বিভিন্ন স্থানে এই মুহূর্তে রাস্তা সংস্কার চলছে। চালকদের অভিযোগ, ঈদের আগে এসব কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ না করলে সড়কে তীব্র জ্যাম তৈরি হবে এবং বাড়ি পৌঁছাতে বড় সময় নষ্ট হবে।
দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর, ইলিয়গঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর, চান্দিনা সদর, বুড়িচংয়ের নিমসার, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজী, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে বেশিরভাগ সময়ই মহাসড়কের দুই লেন বা ফুটপথে যানজট সৃষ্টি হয়। পদুয়ার বাজার বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ স্থল; এখানে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক ক্রস করায় বাস পার্কিং ও ফুটওভারব্রিজের নিচে এলোমেলো স্টপেজের কারণে চট্টগ্রামমুখী লেনে যানজট ইউ-টার্ন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
ফুটপাত দখল করে বসে থাকা দোকানপাট, সড়কে বসে ভ্রাম্যমাণ হকারদের ব্যবসা ও বাস কাউন্টারগুলোর সামনে পথেই বাস দাঁড় করানো—এসব কারণে লোকাল ব্যস্ততা আরও বাড়ে এবং গাড়ি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নোয়াখালী সড়কের মাথায় ফুটওভারব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হলে জায়গাটি প্রায়শই জ্যামের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
চালকরা বলছেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে থ্রি-হুইলার চলাচল সীমিত করা এবং রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী লরি চালক আসাদ উল্লাহ জানান, ‘‘কুমিল্লা অংশেই চার-পাঁচটা বড় বাজার আছে, এগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে অনেক সময় লাগে। এখন রাস্তার সংস্কারও চলেছে—এসব ঠিকমতো না হলে ঈদে আমাদের অনেকেই পথেই আটকে থাকতে পারি।’’
বাস চালক আবদুল মজিদ বলেন, ‘‘এখন আর বেশি সংস্কারের সময় নেই। বরং রাতে বেশি পুলিশ থাকা দরকার, যাতে ছিনতাই ও ডাকাতি রোধ হয়।’’ মাইক্রোবাস চালক অপু হোসেনও বলেছেন, ‘‘ঈদের সময়ে বাড়ি যাওয়া ও ফেরার সময় পুলিশি টহল বাড়লে ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কমে।’’
অন্যদিকে, কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, ঈদের আগে মহাসড়কে চলমান সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার উচ্ছেদে প্রস্তুতি চলেছে। এছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান জানিয়েছেন, ঈদের সময় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের যথাযথ সমন্বয় ও দ্রুত বাস্তবায়নই চালকদের প্রত্যাশা — যেন ঈদে মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারে এবং ফেরার পথে স্বস্তি বজায় থাকে। চালকেরা জানাচ্ছেন, সমন্বিত কাজ, কড়া নজরদারি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই কুমিল্লা অংশে আসন্ন ভিড় সামলাতে কার্যকরি হবে।






