আআসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তবে টুর্নামেন্টটি আটুকুতে পৌঁছানোর আগে একটি বড় অনিশ্চয়তা ঘুরছে—ইরান কি এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে? মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে জোরালো হয়েছে।
সংকট তীব্র হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হানার পরিণতির জের ধরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢুকেছে। এই সংঘাত এখন আর শুধুই আঞ্চলিক নয়; কখনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও নিরাপত্তার অঙ্গনেও এর স্লট দেখা যাচ্ছে। ফলে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপও এই উত্তেজনার বাইরে থাকছে না।
সম্প্রতি ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবে—তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দেন।
ইরানও এতে নীরব থাকেনি। দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ফিফার উপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আয়োজন; এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, কোনো ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের ফুটবলাররা কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিক সাফল্যে এই টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জন করেছে।’ বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়েছে, ‘কারো একার জোরে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না; বরং প্রশ্ন তোলা উচিত সেই আয়োজক দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতার ওপর।’
ট্রাম্প 자신의 সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরানকে স্বাগত জানানো হবে—তবে ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনায়’ সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে কি না তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই বক্তব্যের পর আবারও ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক সঙ্কেত এসেছে, যা ফিফা ও আয়োজনকারী দেশগুলোকে জড়িয়ে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো আয়োজক দেশ কোনো দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্বীকার করে, তাহলে ফিফা প্রয়োজন অনুযায়ী আয়োজক পরিবর্তন করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারে। ইন্ডোনেশিয়ার অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপের উদাহরণ এখানে উল্লেখযোগ্য—ইসরায়েল দলের অংশগ্রহণ বিরোধী অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে আয়োজকত্ব বাদ দিয়ে টুর্নামেন্টটি অন্য দেশে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ফুটবলফ্যানদের জন্য সূচিও গুরুত্বপূর্ণ। অনুসারে, ইরান দলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে; এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা; এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে।
এখন সময়টা কাকোনো দেশের কূটনীতিক, ফিফা প্রশাসক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষদের মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যে কোন সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক—অন্তিম ইচ্ছে থাকা দরকার, মাঠের খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং খেলাটিকে রাজনৈতিক সংকটের শিকার হতে দেওয়া না।






