ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আব্দুল মমিন, তাঁর স্ত্রী ঝরনা বেগম, মেয়ে লাবিবা আক্তার ও শিশু পুত্র সাইফ। তাঁদের পরিবারের আরেক ছেলে আবরার হোসেন বর্তমানে কুমিল্লা সেনানিবাসের ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামমুখী লেনে দ্রুতগামী একটি স্টারলাইন পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন থেকে একটি প্রাইভেটকারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক জামাল হোসেন নিহত হন।
ঘটনা সবক্রমে হাইওয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরে পরিবারের চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানান, ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে, তবে বাসের চালক ও সহকারী বর্তমানে পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া যানবাহন দুটি থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা ও প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে।






