মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত এখনই শেষ হবে না। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে শুক্রবার এক সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তালিকায় এখনও অন্তত ৩৫৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের ভাষণ থেকে বোঝা যায়, যদিও আগে তিনি বিভিন্ন সময় এই যুদ্ধ জয়ের দাবি করেছেন, এবার তিনি স্বীকার করলেন যে সংঘাত পুরোপুরি মার্কিন ও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে আসে নাই। তবু তিনি দ্রুত একটি চূড়ান্ত ইতি টানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে ফ্লোরিডা থেকে সিনেটর মার্কো রুবিওও বলেছেন, সামনের কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধের দিকভঙ্গি বদলাতে পারে এবং ওয়াশিংটন তার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে এগোচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রুবিও আরও বলেন, স্থলবাহিনী ছাড়াই শুধুমাত্র বিমান ও দূরপাল্লার নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহার করেই কাঙ্খিত ফল পাওয়া সম্ভব—যে কৌশল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গুরুত্ব পেয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মূল্যায়ন করে বলছে, শীর্ষ আমেরিকান কর্মকর্তাদের কথাবার্তা থেকে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন একটি নির্দিষ্ট ‘‘টার্গেট লিস্ট’’ ধরে কাজ করছে। ৩৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্বের দাবি মানে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তা ধ্বংস করাই ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরাসরি স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়া মূলত আমেরিকান বাহিনীর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখার উদ্দেশ্য বহন করে। তবে এ কৌশলও মধ্যপ্রাচ্যে বিমান অভিযান ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ধারাবাহিকতা বাড়াচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এতে করে কূটনৈতিক পথ দ্রুত খোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়ে দিয়েছে যে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সামনে আসা সহজ হবে না। অন্যদিকে ইরানি বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধ, স্থায়ী প্রতিরোধ কাঠামো ও কৌশলগত অবস্থানই আগামী দিনের সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে এক তীব্র উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ট্রাম্প একদিকে দ্রুত সংঘাত শেষের কথা বলছেন, অন্যদিকে লক্ষ্যবস্তু বাড়ানোর কথা বলায় তা দ্বিমুখী কৌশলের ইঙ্গিত দেয়—যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠিয়েছে। সামরিক চালিকা শক্তি, কূটনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া—এসব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে সংঘাতের রূপ কেমন হবে তা ঠিক হবে।






