নড়াইলে তেল না দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর ট্রাক চাপায় পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার (৩৩) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (হিট্রু) এই ঘোষণা ও ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, তুলারামপুরের মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত রাত ১২টায় পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা স্টেশনে ডিজেল নিতে এসে তেল না পেয়ে ম্যানেজার নাহিদ সরদারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করেন—স্থানীয় পাম্প সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তেল না থাকায় তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ট্রাকচালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকিও দেন।
দিবাগত শনিবার রাত দুইটার দিকে ম্যানেজার নাহিদ তার সহযোগী জিহাদ মোল্যার সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় পিছন থেকে একই ট্রাক এসে তাদের লক্ষ্য করে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ নিহত হন এবং জিহাদ মারাত্মক আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার জসীম উদ্দিন বলেন, ‘‘সুজাত নামের ট্রাকচালক স্টেশনে তেল নিতে আসেন। তেল না পেয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং পরে হুমকি দেওয়া হয়। কাজ শেষ করে যখন নাহিদ বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখনই পিছন থেকে ট্রাক নিয়ে এসে তাকে চাপা দেয়া হয়েছে।’’
অন্য এক কর্মচারী সোহান হোসেন বলেন, ‘‘আমরা সামনে গেলে দেখি ট্রাক তল্লাশি করে দ্রুত চলে যাচ্ছে এবং নাহিদ রাস্তায় পড়ে আছে।’’
নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম ও স্বজনেরা নিঃশ্বাস হারাচ্ছেন। নিহত নাহিদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হত্যাকারীকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। নিহতের ভাই আকতার সরদার বলেন, ‘‘আমাদের কোনো পূর্ব বিরোধ নেই। তেল ছিল না, সে কীভাবে দেবেন? তেল না দেয়ায় আমার ভাইকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে—সুষ্ঠু বিচার চাই।’’
অভিযুক্তের বাড়ি গেলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং পরিবারের সদস্যরাও অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দর আলী বলেন, ‘‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। একজনকে মৃত অবস্থায় এবং একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী তেল না পেয়ে এ ঘটনা ঘটেছে—we’re investigating and trying to apprehend the truck driver and seize the vehicle.’’
জেলার পাম্প মালিক সমিতি ঘটনার গভীর নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দোষীদের গ্রেফতারের জন্য জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। পুলিশও মামলা তদন্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।






