বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একদিনে দুই দফায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি এনে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। আগের দিন (শুক্রবার) একই মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।
সমিতিটি শনিবার বিকেলে প্রকাশ করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম ঘোষণা করে এবং এটি বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হবে বলেছে। বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় দর সমন্বয় করা হয়েছে।
নির্ধারিত নতুন দামে ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের ভরি মূল্য রাখা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকায়।
রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি মূল্য রয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় স্থির রাখা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে চলমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবেই স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সময়ে চাপের মুখে রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আশেপাশের উত্তেজনা এই মাসের শুরু থেকে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দর উর্ধ্বমুখী রেখেছে; যদিও মাঝে মাঝে ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী।
গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৪,৪৯৪ ডলার। তাদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিতে দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে তা ছিল ৫,৫৫০ ডলার।
গত মাসের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র উর্ধ্বগতির প্রভাবে দেশে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২৯ জানুয়ারি এক দফায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম এক পর্যায়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছিল, যা তখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে ধরা হয়।
এই ওঠানামার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বাজারের পরবর্তী পরিবর্তনগুলোকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।






