বিশ্বকাপ-২০২৬ শুরু হওয়ার আগের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে শক্তিশালী জয় তুলে নিলেন রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গত মঙ্গলবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে বিকট এক লড়াই শেষে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ইউরোপীয় শক্তি ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারায়। এই ফল সেলেসাও দলের আত্মবিশ্বাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
ম্যাচে ব্রাজিল আধিপত্য দেখিয়েছে বল দখল ও আক্রমণভিত্তিক খেলায়। প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার ঝামেলায় ফেলে দলটি বহু সুযোগ তৈরি করলেও প্রথম গোলের অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত থাকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়োর নিখুঁত প্রতিদান থেকে বল পেয়ে দানিলো সান্তোস মাঠি লক্ষ্যভেদ করে ব্রাজিলকে বিরতিতে ১-০ এগিয়ে নিয়ে যায়। ফলে প্রথমার্ধে ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণই পুরো ম্যাচে সুর অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়া আক্রমণে ফিরতে বাধ্য হয় এবং ম্যাচ হয়ে ওঠে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের অবিরাম লড়াই। তবে গোলশূন্যতা ভাঙে না, পর্যন্ত আকর্ষণীয় নাটক আসে ম্যাচের শেষভাগে। ৮৪তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লোভরো মাজর দুর্দান্ত এক শট করে ম্যাচে সমতা ফেরান — ১-১। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ানদের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সমতা ফেরার মাত্র এক মিনিট পর ডি-বক্সে ঘটানো ফাউলের ফলে ব্রাজিল পায় পেনাল্টি। বদলি হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি জালে জড়িয়ে দলকে ২-১ করে দেন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তরুণ সেনসেশন এনড্রিক নিজের উজ্জ্বল উপস্থিতি দেখান; ব্যক্তিগত গোল না পেলেও তাঁর গতিময়তা ও একাধিক কৌশলী চাল ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে বিহ্বল করে রাখে। সময়ের একেবারে শেষে ইগর থিয়াগোর পাসকে দারুন এক ব্যক্তিগত কম্বিনেশনের পর এনড্রিক আক্রমণ সাজান, এবং তাঁর নিখুঁত ক্লান্তিতে আর্সেনালের ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোল করে ম্যাচ ৩-১ এ শেষ করেন।
এনচেলত্তির দলের প্রদর্শন একদিকে লাতিন আমেরিকান শৈল্পিক ফুটবল আর অন্যদিকে আধুনিক রণকৌশলের সমন্বয়ের সুন্দর উদাহরণ ছিল — দ্রুত অটাক, কনসেন্ট্রেটেড পজেশন ও সময়ের হলে গোলের সন্ধান।
টিম ম্যানেজমেন্টের সূচি অনুযায়ী কোচ আনচেলত্তি আগামী ১১ মে ফিফায় ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা জমা দেবেন এবং ১৮ মে চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। বিশ্বকাপের আগের বিদায়ী ম্যাচটি ব্রাজিল খেলবে ৩১ মে ঐতিহাসিক মারাকানায় পানামের বিপক্ষে, এরপরই তারা টুর্নামেন্টের’র হোস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে — সেলেসাওর ‘হেক্সা’ অর্থাৎ ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লড়াই শুরু হবে তখন।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই জয় ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের মনে আবারও বিশ্বজয়ের প্রত্যাশা জাগিয়েছে এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলকে আত্মবিশ্বাসের বড় চাল দিয়েছে।






